পৃথিবীর অন্দরমহল (প্রথম অধ্যায়) অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর. 100% Common

1. পৃথিবীর যে শক্তপিঠের ওপর আমরা আছি তার নীচে কী আছে?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরস্থ বিভিন্ন স্তর (যেমন গুরুমণ্ডল বা ম্যান্টল এবং কেন্দ্রমণ্ডল বা কোর)
পৃথিবীর যে শক্ত পিঠের ওপর আমরা বাস করি, তাকে ভূত্বক বা ক্রাস্ট (Crust) বলে। এর ঠিক নীচে গুরুমণ্ডল (Mantle) এবং তারও নীচে কেন্দ্রমণ্ডল (Core) অবস্থিত।

2. পৃথিবীর সাগরের গভীরতম কৃত্রিম গর্ত কোনটি?
উত্তর: Kola Superdeep Borehole
যদিও প্রশ্নে “সাগরের” কথা বলা হয়েছে, সাধারণভাবে পৃথিবীর গভীরতম কৃত্রিম গর্ত বলতে রাশিয়ার কোলা সুপারডিপ বোরহোলকেই বোঝানো হয়। এটি মানুষের তৈরি সবচেয়ে গভীর খননকৃত গর্ত।

3. পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল আজ থেকে কত বছর আগে?
উত্তর: প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে
গবেষকদের মতে, পৃথিবী আজ থেকে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর (প্রায় ৪৫০ কোটি বছর) আগে গঠিত হয়েছিল।

4. পৃথিবীর গড় ঘনত্ব কত?
উত্তর: প্রায় ৫,৫১৭ kg/m³ বা ৫.৫১৭ g/cm³
পৃথিবীর গড় ঘনত্ব প্রায় ৫,৫১৭ কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার। এটি সৌরজগতের গ্রহগুলির মধ্যে সর্বাধিক ঘনত্বের একটি।

5. উষ্ণ প্রস্রবণের জল গরম হবার কারণ কী?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের তাপ উষ্ণ প্রস্রবণের জল গরম হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভূ-অভ্যন্তরের উত্তাপ। জল ভূগর্ভে প্রবেশ করে উত্তপ্ত শিলার সংস্পর্শে এসে গরম হয়ে উপরে উঠে আসে।

6. পৃথিবীর কঠিন বাহ্যিক আবরণকে কী বলে?
উত্তর: ভূত্বক (Crust) পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের কঠিন আবরণকে ভূত্বক বা ক্রাস্ট বলা হয়। এটি মূলত অক্সিজেন, সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত।

7. সবচেয়ে দূরগামী ভূমিকম্প কোনটি?
উত্তর: এটি একটি ধারণাগত প্রশ্ন যার নির্দিষ্ট উত্তর নেই।
ভূমিকম্পের দূরগামিতা তার মাত্রা, গভীরতা ও উৎপত্তিস্থলের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, রিখটার স্কেলে উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প বেশি দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়।

8. মহাদেশীয় ভূত্বক কোন শিলা দিয়ে গঠিত?
উত্তর: গ্রানাইট শিলা মহাদেশীয় ভূত্বক বা সিয়াল (Sial) প্রধানত গ্রানাইট জাতীয় আম্লিক শিলা দিয়ে গঠিত।

9. ক্রফেসিমা ও নিফেসিমার অবস্থিত বিযুক্তি রেখা কোন কোনটি?
উত্তর: Conrad Discontinuity এবং Gutenberg Discontinuity ক্রফেসিমা (Crofesima) ও নিফেসিমার (Nifesima) মাঝখানে গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা অবস্থিত। ভূত্বকের মধ্যে সিয়াল (Sial) ও সিমা (Sima) স্তরের মাঝখানে কনরাড বিযুক্তি রেখা অবস্থিত।

10. ভূ-অভ্যন্তরস্থ সমস্ত স্তরের সবচেয়ে দুর্বল স্তর কোনটি?
উত্তর: অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার হলো গুরুমণ্ডলের উপরের অংশ। এই স্তরটি অর্ধ-গলিত ও সান্দ্র অবস্থায় থাকে, তাই এটি অন্যান্য কঠিন স্তরের তুলনায় দুর্বল এবং এর উপরেই টেকটোনিক প্লেটগুলো ভেসে থাকে।

Mock Test

11. ভূমিকম্প তরঙ্গের কয়টি ভাগ ও কী কী?
উত্তর: ভূমিকম্পের তরঙ্গ সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত।
(ক) দেহ তরঙ্গ (Body Waves) – এগুলি পৃথিবীর অভ্যন্তর দিয়ে ছড়ায়। এর মধ্যে P-তরঙ্গ (Primary) ও S-তরঙ্গ (Secondary) আছে।
(খ) পৃষ্ঠ তরঙ্গ (Surface Waves) – এগুলি ভূপৃষ্ঠ বরাবর ছড়ায়। এর মধ্যে L-তরঙ্গ (Love) ও Rayleigh তরঙ্গ অন্তর্ভুক্ত।

12. ঘনত্ব কাকে বলে?
উত্তর: কোনো পদার্থের একক আয়তনের ভরকে ঘনত্ব বলা হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট আয়তনের মধ্যে কত পরিমাণ ভর বা উপাদান সন্নিবেশিত আছে, তার পরিমাপকেই ঘনত্ব বলে। ঘনত্ব পদার্থের একটি মৌলিক ভৌত ধর্ম, যা কোনো বস্তুর গাঢ়ত্ব বা কমপ্যাক্টনেস নির্দেশ করে। অর্থাৎ বস্তুটি কতটা ঘনভাবে গঠিত, তা ঘনত্বের মাধ্যমে বোঝা যায়।

সূত্র:
ঘনত্ব = ভর ÷ আয়তন

একক:
এসআই (SI) পদ্ধতিতে ঘনত্বের একক হলো কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (kg/m³)। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম প্রতি ঘনসেন্টিমিটার (g/cm³) ব্যবহার করা হয়।

তাৎপর্য:
তাপমাত্রা ও চাপের পরিবর্তনের সঙ্গে পদার্থের ঘনত্ব পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশি লক্ষ্য করা যায়।

13. পৃথিবীর অভ্যন্তরে কয়টি স্তর ও কী কী?
উত্তর: তিনটি স্তর। পৃথিবীর অভ্যন্তর প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত—
১) ভূত্বক (Crust)
২) গুরুমণ্ডল (Mantle)
৩) কেন্দ্র মণ্ডল (Core)
এই তিনটি স্তরের গঠন, ঘনত্ব ও তাপমাত্রা একে অপরের থেকে ভিন্ন।

14. মহাসাগরের নিচের স্তরের নাম কী?
উত্তর: মহাসাগরীয় ভূত্বক (Oceanic Crust)
মহাসাগরের তলদেশের নিচে যে স্তরটি থাকে তাকে মহাসাগরীয় ভূত্বক বলে। এটি তুলনামূলকভাবে পাতলা কিন্তু বেশি ঘন এবং প্রধানত ব্যাসাল্ট শিলা দিয়ে গঠিত।

15. মহাদেশের নীচে কোন স্তর আছে?
উত্তর: মহাদেশীয় ভূত্বক (Continental Crust)
মহাদেশের নিচে যে অংশটি থাকে তাকে মহাদেশীয় ভূত্বক বলে। এটি মহাসাগরীয় ভূত্বকের চেয়ে পুরু কিন্তু ঘনত্বে কিছুটা কম এবং প্রধানত গ্রানাইট জাতীয় শিলা দিয়ে তৈরি।

16. কনরাড বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
উত্তর: Conrad Discontinuity
কনরাড বিযুক্তি রেখা হলো মহাদেশীয় ভূত্বকের উপরের স্তর (সিয়াল) ও নিচের স্তর (সিমা)-এর মধ্যবর্তী সীমারেখা। এই স্তরে ভূমিকম্পের P-তরঙ্গের গতিবেগ হঠাৎ বেড়ে যায়।

17. গুরুমণ্ডলের কয়টি ভাগ ও কী কী?
উত্তর: দুটি ভাগ।
গুরুমণ্ডলকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—
১) ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (Upper Mantle বা Asthenosphere অংশসহ)
২) নিম্ন গুরুমণ্ডল (Lower Mantle)
ঊর্ধ্ব অংশ তুলনামূলকভাবে নমনীয়, আর নিম্ন অংশ অধিক কঠিন ও ঘন।

18. কেন্দ্র মণ্ডলের অপর নাম কী?
উত্তর: নিফে (Nife)
কেন্দ্র মণ্ডলকে নিফে বলা হয়, কারণ এটি প্রধানত নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe) দ্বারা গঠিত।

19. কেন্দ্র মণ্ডলের কয়টি ভাগ ও কী কী?
উত্তর: দুটি ভাগ।
কেন্দ্র মণ্ডলকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—
১) বহিঃকেন্দ্র মণ্ডল (Outer Core) — এটি তরল অবস্থায় থাকে।
২) অন্তঃকেন্দ্র মণ্ডল (Inner Core) — এটি কঠিন অবস্থায় থাকে।

20. মোহোরোভিসিক বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
উত্তর: Mohorovičić Discontinuity
মোহোরোভিসিক বা মোহো বিযুক্তি রেখা হলো ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মধ্যবর্তী সীমারেখা। এই স্থানে ভূমিকম্পের P ও S তরঙ্গের গতিবেগ হঠাৎ বৃদ্ধি পায়।

21. গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
উত্তর: Gutenberg Discontinuity
গুটেনবার্গ বিযুক্তি রেখা হলো গুরুমণ্ডল ও কেন্দ্র মণ্ডলের মধ্যবর্তী সীমা। এই স্তরে S-তরঙ্গ আর চলাচল করতে পারে না এবং P-তরঙ্গের গতিবেগ কমে যায়।

22. লেহম্যান বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?
উত্তর: Lehmann Discontinuity
লেহম্যান বিযুক্তি রেখা হলো বহিঃকেন্দ্র মণ্ডল (তরল) ও অন্তঃকেন্দ্র মণ্ডলের (কঠিন) মাঝের সীমা। এই স্থানে P-তরঙ্গের গতিবেগ আবার কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

23. পাত সমস্থান তত্ত্ব কী?
উত্তর: পাত সমস্থান তত্ত্ব বা Plate Tectonics হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক ধারণা, যেখানে বলা হয় পৃথিবীর কঠিন বহিরাবরণ (লিথোস্ফিয়ার) কয়েকটি বড় বড় পাত বা প্লেট দিয়ে তৈরি। এই পাতগুলো নীচের অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের উপর ভেসে থেকে খুব ধীরে চলাচল করে। এই চলনের ফলেই ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি ও মহাসাগরীয় খাদ গঠনের মতো ঘটনা ঘটে।

24. প্যান জিয়া কাকে বলে?
উত্তর: প্যানজিয়া ছিল একটি প্রাচীন অতিকায় মহাদেশ, যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগকে একত্রে যুক্ত করেছিল। গ্রিক শব্দ প্যান (সব) ও জিয়া (ভূমি) থেকে নামটির উৎপত্তি। পরে এই বিশাল মহাদেশটি ভেঙে আজকের পৃথক পৃথক মহাদেশগুলির সৃষ্টি হয়।

25. অভিসারী পাতসীমানা কাকে বলে?
উত্তর: অভিসারী পাতসীমানা (Convergent plate boundary) হলো সেই অঞ্চল, যেখানে দুটি ভূত্বকীয় পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষ করে। অনেক সময় একটি পাত অন্যটির নিচে ঢুকে যায়—একে অধোগমন বলে। এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।

26. অপসারী পাতসীমানা কাকে বলে?
উত্তর: অপসারী পাতসীমানা (Divergent plate boundary) হলো সেই স্থান, যেখানে দুটি পাত একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। মাঝখানে ফাঁক তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা উপরে উঠে এসে নতুন ভূত্বক গঠন করে। সমুদ্রতলের বিস্তার এই সীমানায় বেশি দেখা যায়।

27. অভিসারী ও অপসারী মধ্যে পার্থক্য লেখ?
উত্তর: অভিসারী ও অপসারী পাতসীমানার পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো—

  • সংজ্ঞা: অভিসারী সীমানায় দুটি পাত একে অপরের দিকে আসে, অপসারী সীমানায় তারা বিপরীত দিকে সরে যায়।
  • ভূত্বকের অবস্থা: অভিসারী ক্ষেত্রে ভূত্বক ধ্বংস বা নিচে ঢুকে যায়; অপসারী ক্ষেত্রে নতুন ভূত্বক তৈরি হয়।
  • ভূ-রূপের সৃষ্টি: অভিসারী অঞ্চলে গভীর খাদ ও আগ্নেয়গিরি বেশি গঠিত হয়, আর অপসারী অঞ্চলে মধ্য-মহাসাগরীয় শৈলশিরা তৈরি হয়।

28. নিরপেক্ষ পাতসীমানা কাকে বলে?
উত্তর: নিরপেক্ষ পাতসীমানা (Transform plate boundary) হলো সেই অঞ্চল, যেখানে দুটি পাত পাশাপাশি বিপরীতমুখে সরে যায় এবং পরস্পরের সাথে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। এখানে না নতুন ভূত্বক সৃষ্টি হয়, না পুরনো ভূত্বক ধ্বংস হয়। তবে এই ধরনের সীমানা ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে থাকে।

29. সামুদ্রিক শৈলশিরা কী ভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: সামুদ্রিক শৈলশিরা (Oceanic ridge) সাধারণত অপসারী পাতসীমানা বরাবর গঠিত হয়। যখন দুটি মহাসাগরীয় পাত দূরে সরে যায়, তখন মাঝখানের ফাটল দিয়ে ম্যাগমা বেরিয়ে এসে ঠান্ডা জলে দ্রুত জমে শক্ত শিলা তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকায় সমুদ্রতলে দীর্ঘ উঁচু পর্বতমালার মতো শৈলশিরা সৃষ্টি হয়।

30. ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া (Tectonic processes) বলতে পৃথিবীর ভূত্বকের গঠন ও পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত সব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়। পাতের চলন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পর্বত গঠন—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। সহজভাবে বললে, পৃথিবীর গঠন বদলানোর বড় বড় শক্তির কাজই হলো ভূগাঠনিক প্রক্রিয়া।

31. অন্তরজাতক প্রক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: অন্তরজাতক প্রক্রিয়া (Endogenic processes) হলো পৃথিবীর ভেতরের শক্তির কারণে সংঘটিত প্রক্রিয়া। এই শক্তি ভূত্বকে ভাঁজ, ফাটল বা উত্তোলন ঘটায় এবং নতুন ভূমিরূপ তৈরি করে। যেমন—পাতের সঞ্চালন, ম্যাগমার উত্থান, ভূমিকম্প ইত্যাদি।

32. বহিরজাতক প্রক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর: বহিরজাতক প্রক্রিয়া (Exogenic processes) হলো পৃথিবীর উপরিভাগে বাইরের শক্তির প্রভাবে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ। আবহবিকার, ক্ষয়, পরিবহন ও সঞ্চয়—এই কাজগুলির মাধ্যমে ভূমিরূপ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। নদী, বায়ু, হিমবাহ ও সমুদ্রতরঙ্গ এ ধরনের প্রক্রিয়ার উদাহরণ।

33. অন্তরজাতক ও বহিরজাতক প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য লেখ?
উত্তর: অন্তরজাতক ও বহিরজাতক প্রক্রিয়ার প্রধান পার্থক্য হলো—

  • শক্তির উৎস: অন্তরজাতক প্রক্রিয়ার শক্তি পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে আসে, আর বহিরজাতক প্রক্রিয়ার শক্তি আসে সূর্য ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব থেকে।
  • ভূমিরূপের পরিবর্তন: অন্তরজাতক প্রক্রিয়া সাধারণত নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, যেমন ভাঁজ হয়ে পর্বত গঠন। অন্যদিকে বহিরজাতক প্রক্রিয়া বিদ্যমান ভূমিরূপকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে সমতল বা নিচু করে ফেলে।
  • প্রভাব: অন্তরজাতক প্রক্রিয়ায় বড় ও দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে (যেমন পর্বতমালা সৃষ্টি), আর বহিরজাতক প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমিরূপ বদলে দেয়।

34. সঞ্চয়জাতক বা আগ্নেয় কী ভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: আগ্নেয় শিলা বা Igneous rock তৈরি হয় ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা হয়ে শক্ত হলে। যখন ভূগর্ভের গলিত ম্যাগমা ভূত্বকের ভেতরেই ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে, তখন এক ধরনের আগ্নেয় শিলা গঠিত হয়; আবার যদি তা ফাটল দিয়ে উপরে উঠে লাভা হিসেবে বেরিয়ে এসে ঠান্ডা হয়, তবেও আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, গলিত পদার্থ শক্ত হয়ে পাথরে পরিণত হলেই তাকে আগ্নেয় শিলা বলা হয়।

35. লাভা উদগিরণের ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরীকে ক’ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর: লাভা উদগিরণের ধরন বা তীব্রতার উপর ভিত্তি করে আগ্নেয়গিরিকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—

১) কেন্দ্রীয় অগ্ন্যুৎপাত: এ ক্ষেত্রে লাভা একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নল বা মুখ দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বেরিয়ে আসে। উদাহরণ হিসেবে ভিসুভিয়াসউল্লেখ করা যায়।

২) বিদার অগ্ন্যুৎপাত: এখানে লাভা ভূত্বকের দীর্ঘ ফাটল বা বিদার দিয়ে ধীরে ও অপেক্ষাকৃত শান্তভাবে বেরিয়ে আসে এবং বিস্তৃত মালভূমি সৃষ্টি করে। যেমন দাক্ষিণাত্য মালভূমি।

36. সক্রিয়তার ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরীর শ্রেণি ভাগ লেখ?
উত্তর: সক্রিয়তার ভিত্তিতে আগ্নেয়গিরীকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়—

১) সক্রিয় আগ্নেয়গিরি: যেসব আগ্নেয়গিরি থেকে বর্তমানে বা সাম্প্রতিক সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। যেমন ব্যারেন দ্বীপ।

২) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি: বহুদিন অগ্ন্যুৎপাত না হলেও ভবিষ্যতে আবার জেগে উঠতে পারে। উদাহরণ— ফুজিয়ামা।

৩) মৃত বা লুপ্ত আগ্নেয়গিরি: যেগুলো দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় এবং পুনরায় অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা খুবই কম। যেমন কিলিমাঞ্জারো।

37. লাভার প্রকৃতি অনুসারে লাভাকে কত ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর: লাভার গঠন, বিশেষ করে সিলিকার পরিমাণ ও সান্দ্রতার উপর ভিত্তি করে লাভাকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—

১) অম্লধর্মী বা সিলিকাপ্রধান লাভা: এতে সিলিকার পরিমাণ বেশি (প্রায় ৬৫–৮০%) হওয়ায় এটি ঘন ও আঠালো প্রকৃতির হয়। ফলে ধীরে প্রবাহিত হয় এবং সহজে আগ্নেয় শঙ্কু তৈরি করে।

২) ক্ষারধর্মী বা ব্যাসল্টপ্রধান লাভা: এতে সিলিকার পরিমাণ কম থাকায় এটি তুলনামূলকভাবে পাতলা ও দ্রুত প্রবাহমান। তাই বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মালভূমি সৃষ্টি করতে পারে।

38. ভূমিকম্পের কেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর: ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus বা Hypocenter) হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে সেই নির্দিষ্ট স্থান, যেখানে প্রথম শিলাস্তরে ফাটল ধরে এবং শক্তি নির্গত হয়। এই স্থান থেকেই কম্পনের সূচনা হয় এবং তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

39. ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর: ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র (Epicenter) হলো ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক উল্লম্বভাবে উপরের ভূপৃষ্ঠের স্থান। সাধারণত এই জায়গাতেই কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।

40. ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ কাকে বলে?
উত্তর: ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ (Primary waves বা P-waves) হলো সেই তরঙ্গ যা কেন্দ্র থেকে সবার আগে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভূপৃষ্ঠে প্রথম পৌঁছায়। এরা কঠিন, তরল ও গ্যাস—সব ধরনের মাধ্যমে চলতে পারে এবং এদের গতি অন্যান্য তরঙ্গের তুলনায় বেশি।

1. ভূত্বক কাকে বলে?

উত্তর :
পৃথিবীর চারদিকে যে হালকা ও শক্ত শিলাস্তরের স্তর আবরণের মতো ঘিরে রয়েছে, তাকে ভূত্বক (Crust) বলে।

2. পৃথিবীর কোন স্তরকে ভূত্বক বলা হয়?

উত্তর :
পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের শিলাস্তরকে ভূত্বক বলা হয়।

3. ভূত্বক কেন পৃথিবীর সবচেয়ে হালকা স্তর বলা হয়?

উত্তর :
কারণ ভূত্বকের উপাদানগুলি তুলনামূলকভাবে হালকা এবং এর ঘনত্ব পৃথিবীর অন্যান্য স্তরের তুলনায় কম।

4. ভূত্বক প্রধানত কোন কোন শিলা দিয়ে গঠিত?

উত্তর :
ভূত্বক প্রধানত গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট-জাতীয় কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত।

5. ভূত্বকে কোন কোন হালকা মৌল বেশি পরিমাণে থাকে?

উত্তর :
ভূত্বকে সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম বেশি পরিমাণে থাকে।

6. গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট শিলা কোন স্তরের সঙ্গে যুক্ত?

উত্তর :
গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট শিলা ভূত্বক স্তরের সঙ্গে যুক্ত।

7. সমুদ্রের তলায় ভূত্বকের গড় পুরুত্ব কত?

উত্তর :
সমুদ্রের তলায় ভূত্বকের গড় পুরুত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার।

8. মহাদেশগুলির তলদেশে ভূত্বকের গড় পুরুত্ব কত?

উত্তর :
মহাদেশগুলির তলদেশে ভূত্বকের গড় পুরুত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার।

9. সামগ্রিকভাবে ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?

উত্তর :
সামগ্রিকভাবে ভূত্বকের গড় গভীরতা প্রায় ৩০ কিলোমিটার।

10. পৃথিবীর তিনটি স্তরের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে হালকা?

উত্তর :
পৃথিবীর তিনটি স্তরের মধ্যে ভূত্বক সবচেয়ে হালকা।

11. ভূত্বকের আপেক্ষিক গুরুত্ব কেমন?

উত্তর :
ভূত্বকের আপেক্ষিক গুরুত্ব কম, তাই এটি হালকা প্রকৃতির।

12. ভূত্বক জলের তুলনায় কত গুণ ভারী?

উত্তর :
ভূত্বক জলের তুলনায় প্রায় ২–৩ গুণ ভারী।

13. ভূত্বকের উপরের অংশের নাম কী?

উত্তর :
ভূত্বকের উপরের অংশের নাম সিয়াল (SIAL)।

14. সিয়াল (SIAL) কোন কোন মৌল দিয়ে গঠিত?

উত্তর :
সিয়াল সিলিকা (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দিয়ে গঠিত।

15. ভূত্বকের নীচের অংশকে কী বলা হয়?

উত্তর :
ভূত্বকের নীচের অংশকে সিমা (SIMA) বলা হয়।

16. সিমা (SIMA) কোন কোন মৌল দিয়ে গঠিত?

উত্তর :
সিমা সিলিকা (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দিয়ে গঠিত।

17. সিয়াল ও সিমার মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর :
সিয়ালে অ্যালুমিনিয়াম বেশি থাকে, আর সিমায় ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে।

18. ভূত্বক স্তরে সিলিকনের গুরুত্ব কী?

উত্তর :
সিলিকন ভূত্বকের প্রধান উপাদানগুলির একটি এবং শিলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

19. ভূত্বককে পৃথিবীর আবরণ বলা হয় কেন?

উত্তর :
কারণ ভূত্বক পৃথিবীর চারদিকে আবরণের মতো ঘিরে রয়েছে।

20. ভূত্বক কোন স্তরের উপরে অবস্থিত?

উত্তর :
ভূত্বক পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর হিসেবে অবস্থিত।

21. সিমা (SIMA) কাকে বলে?

উত্তর :
ভূত্বকের যে অংশ ম্যাগনেশিয়াম (Mg) দিয়ে তৈরি, তাকে সিমা (SIMA) বলা হয়।

২২. সিমার ঘনত্ব কত?

উত্তর :
সিমার ঘনত্ব প্রায় 2.9 গ্রাম/ঘনসেমি।

২৩. শিলামণ্ডল বা অশ্মমণ্ডল কাকে বলে?

উত্তর :
সমগ্র ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের অংশ নিয়ে গঠিত স্তরকে শিলামণ্ডল বা অশ্মমণ্ডল (Lithosphere) বলা হয়।

24. শিলামণ্ডলের গভীরতা প্রায় কত?

উত্তর :
শিলামণ্ডলের গভীরতা প্রায় 100 কিলোমিটার।

25. শিলামণ্ডল কোন কোন স্তর নিয়ে গঠিত?

উত্তর :
শিলামণ্ডল মহাদেশীয় ভূত্বক, মহাসাগরীয় ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের ঊর্ধ্বাংশ নিয়ে গঠিত।

26. শিলামণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর :
শিলামণ্ডলের প্রধান উপাদান হল অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও লোহা।

27. ‘Lithosphere’ শব্দটির অর্থ কী?

উত্তর :
‘Lithosphere’ শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে, যেখানে ‘Lithos’ অর্থ শিলা এবং ‘sphere’ অর্থ মণ্ডল।

28. শিলামণ্ডলের নামকরণের কারণ কী?

উত্তর :
শিলা দিয়ে গঠিত মণ্ডল হওয়ায় এই স্তরের নাম শিলামণ্ডল বা অশ্মমণ্ডল।

29. শিলামণ্ডলের উষ্ণতা কেমন হয়?

উত্তর :
শিলামণ্ডলের বাইরের অংশে উষ্ণতা কম এবং ভিতরের অংশে উষ্ণতা বেশি হয়।

30. শিলামণ্ডলে প্রতি কিলোমিটার গভীরতায় তাপমাত্রা কত বৃদ্ধি পায়?

উত্তর :
শিলামণ্ডলে গড়ে প্রতি 1 কিলোমিটার গভীরতায় প্রায় 30° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

31. শিলামণ্ডলের আপেক্ষিক গুরুত্ব কেমন?

উত্তর :
শিলামণ্ডল জলের তুলনায় প্রায় 2–3 গুণ ভারী।

32. শিলামণ্ডল পৃথিবীর কোন অংশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত?

উত্তর :
শিলামণ্ডল পৃথিবীর ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের উপরের অংশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top